 |
| সমুদ্রসৈকত |
সাগরসঙ্গমে
বঙ্গোপসাগরের শুভ্র ফেনিল তরঙ্গরাশি আছড়ে পড়ছে সাদা বালুর চরে, সমুদ্রে ফিরে যাবার পথে ধুয়ে দিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রসৈকতকে। অনতিদূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কপিলমুনির আশ্রমের চূড়া।সমুদ্রের তরঙ্গরাশি যেন তারই পদপ্রান্তে এসে আছড়ে পড়ছে মুহুর্মুহু। দক্ষিণে কূলকিনারাহীন সমুদ্র, আর ডাইনে বাঁয়ে দুদিকে বিস্তৃত সমুদ্রসৈকত যেন দু'বাহু বিস্তার করে বুক পেতে ধরে আলিঙ্গন করছে আগত তরঙ্গরাশিকে। আর দু'দিকের সৈকত বরাবর বিস্তৃত সুঘন ঝাউবনের সারি যেন নীরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই অপরূপ লীলা দু'চোখ ভরে দেখছে। সত্যিই এ যেন এক মায়ার রাজ্য। অপেক্ষাকৃত নির্জন, তাই বুঝি সে আরো বেশি সুন্দর !
 |
| কপিলমুনির আশ্রমের সম্মুখে সাগরস্নান |
দীঘার মতো ভিড় এখানে নেই। কিন্তু এ সৌন্দর্য্য দীঘাতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সমুদ্রসৈকত বলতে সবাই এক কথাতেই চেনে দীঘাকে, ভিড় জমায় দীঘাতে গিয়ে। মানুষের ভিড়ে দীঘা আজ বুঝি সত্যিই ক্লান্ত। কিন্তু সাগরদ্বীপে লোকচক্ষুর অন্তরালে কালে কালে সংগোপনে সমুদ্রসৈকত যে নিজেকে এত অপরূপা করে সাজিয়ে নিয়েছে তা এখানে না এলে বোঝা মুশকিল।
 |
| সুবিস্তৃত সৈকত আর ঝাউবনের কোলাকুলি |
কপিলমুনির আশীর্বাদধন্য এই পুণ্য বেলাভূমি যেন নিজেকে সকল কলুষতা, অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখেছে। এ এক পবিত্র, ঝলমল নির্মল বেলাভূমি। এখানে এলে মিলবে অপার প্রশান্তি, দূরীভূত হয়ে যাবে মনের সকল ক্লান্তি ও গ্লানি।
 |
| আকাশছোঁয়া ঝাউবন |
তবুও মানুষ দীঘাতে যায়,সাগরদ্বীপে যায় না; দীঘাকে চেনে, সাগরদ্বীপ চেনে না। কারণ একটাই - যোগাযোগের দুর্গমতা।সমুদ্রের মাঝে এর অবস্থান। ফেরিতে করে সুবিস্তৃত হুগলি নদীর মোহনা পাড়ি দিয়ে এখানে আসতে হয়, এই মোহনা পাড়ি দিতে সময় লাগে আধঘন্টা। কিন্তু এটাই হচ্ছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, যা দীঘাতে অনুপস্থিত। এই রোমাঞ্চই সাগরদ্বীপ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
 |
| নির্জন সৈকত |
কিভাবে যাবেন -
এখানে আসতে হলে উঠে পড়ুন শিয়ালদহ দক্ষিণ ডিভিশন থেকে নামখানা লোকালে।
 |
| শিয়ালদহ স্টেশন, সাউথ ডিভিশন |
নেমে পড়ুন কাকদ্বীপ স্টেশনে।
 |
| কাকদ্বীপ স্টেশন |
সেখান থেকে টোটোতে চড়ে চলে আসুন ভেসেল ঘাটে। সেখান থেকে ভেসেলে ওঠার টিকিট কাটুন।
 |
| দিতে হবে পাড়ি, এখান থেকেই |
ভেসেলে উঠুন, এসে নামুন সাগরদ্বীপে। সেখান থেকে বাস বা ম্যাজিকে চলে আসুন সোজা সমুদ্রসৈকতে কপিলমুনির আশ্রমে। এবার প্রাণভরে উপভোগ করুন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে। ট্রেনে আড়াই ঘন্টার জার্নি। টোটো ভাড়া কুড়ি টাকা। ভেসেলের টিকিট নয় টাকা।
 |
| ঝাউবনের ফাঁক দিয়ে দেখা সমুদ্র |
থাকার জায়গা -
থাকার জায়গার অভাব নেই। রয়েছে আশ্রম তথা সৈকতসংলগ্ন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। এছাড়া আরো অনেক জায়গা।
 |
| কপিলমুনির আশ্রম |